করোনাভাইরাস||Corona virus||প্রতিকার||প্রতিরোধ||

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯

পশুপাখীবাহী ভাইরাস সার্স-কভি-২ দ্বারা সৃষ্ট শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রামক রোগ


করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ বা কোভিড-১৯মানুষের একটি সংক্রামক ব্যাধি যা গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণসমষ্টি সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস ২ (সার্স-কোভ-২) নামক এক ধরনের ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। এই ব্যাধিটি সর্বপ্রথম ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের প্রারম্ভে ব্যাধিটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক মহামারীর রূপ ধারণ করে। ব্যাধিটির সাধারণ উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে মাংসপেশীর ব্যথা, বারবার থুতু সৃষ্টি এবং গলায় ব্যথা দেখা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপসর্গগুলো নমনীয় আকারে দেখা যায়, কিন্তু কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে ফুসুফুস প্রদাহ (নিউমোনিয়া) এবং বিভিন্ন অঙ্গের বিকলতাও দেখা যায়।সংক্রমিত হবার পরে এই ব্যাধিতে মৃত্যুর হার গড়ে ৩.৪%, যেখানে ২০ বছরের নিচের রোগীদের মৃত্যুর হার ০.২% এবং ৮০ বছরের উর্ধ্বে রোগীদের প্রায় ১৫%।দ্রুত তথ্য: কারণ, মৃত্যু …

এই রোগ সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সৃষ্ট বায়ুকণা থেকে ছড়ায়। এছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির জীবাণু হাঁচি-কাশির কারণে বা জীবাণুযুক্ত হাত দিয়ে স্পর্শ করার কারণে পরিবেশের বিভিন্ন বস্তুর পৃষ্ঠতলে লেগে থাকলে এবং সেই ভাইরাসযুক্ত পৃষ্ঠতল অন্য কেউ হাত দিয়ে স্পর্শ করে নাকে-মুখে-চোখে হাত দিলে করোনাভাইরাস নাক-মুখ-চোখের শ্লেষ্মাঝিল্লী দিয়ে দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়; গড়ে ৫ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়।  সাধারণত নাক কিংবা গলার শ্লেষা পরীক্ষাগারে নিয়ে বিপরীত প্রতিলিপিকরণ পলিমার শৃঙ্খল বিক্রিয়ার (rRT-PCR) মাধ্যমে রোগনির্ণয় করা হয়। এছাড়াও স্বাস্থঝুঁকি, বক্ষের সিটি চিত্রগ্রহণের (সিটি স্ক্যানের) মাধ্যমে ফুসফুস প্রদাহের (নিউমোনিয়ার) উপস্থিতি এবং উপসর্গ থেকেও ব্যাধিটি নির্ণয় করা যায়।

করোনাভাইরাস রোগ প্রতিরোধের জন্য ঘনঘন হাত ধোয়া, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, এবং অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে বিরত থাকা উচিত। সাধারণ ও সুস্থ ব্যক্তির মুখোশ (মাস্ক) ব্যাবহার না করলেও চলবে কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন এমন ব্যক্তি এবং তাদের পরিচর্যার লোকেদের চিকিৎসা-মুখোশ (মাস্ক) ব্যবহার অপরিহার্য। কোভিড-১৯ এর কোনো টিকাকিংবা নির্দিষ্ট ভাইরাস নিরোধক নেই। উপসর্গুগলোর চিকিৎসা, সহায়ক যত্ন, অন্তরণ বা আইসোলেশন), এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণই করণীয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০১৯-২০২০ করোনাভাইরাস এর আক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারীএবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা(PHEIC) ঘোষণা করেছে। ছয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অঞ্চলে এই ব্যাধির স্থানীয় সংক্রমণ দেখা গেছে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

আরও তথ্য: উপসর্গ, শতাংশ …

এই ভাইরাসের ফলে আক্রান্তরা আপাতভাবে সুস্থ মনে হতে পারে, বা ফ্লু-এর মত উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বরকাশিশ্বাসকষ্ট।অপেক্ষাকৃত কম ক্ষেত্রে দেখা যায় উর্ধ্ব শ্বসনতন্ত্রেরকিছু লক্ষণ যেমন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা ইত্যাদি। গ্যাস্টোইনটেস্টিনাল উপসর্গ যেমন বমি-বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদিও খুব কম কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়। চীনে সংঘটিত কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে হৃদযন্ত্রের সমস্যা, যেমন বুক ব্যথা বা চেস্ট টাইটনেস এবং বুক ধড়ফড় করা বা পালপিটেশান।কিছুক্ষেত্রে এই ব্যাধির পরবর্তী ধাপ হিসেবেনিউমোনিয়া, একাধিক অঙ্গ বিকল এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

অন্যান্য সংক্রমণের মত এক্ষেত্রেও আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমিত হওয়ার কিছুদিন পরে উপসর্গ দেখাতে শুরু করে। এই সময়কে সুপ্তাবস্থা বলা হয়। কোভিড-১৯ রোগের সুপ্তাবস্থা সাধারণ ৫ থেকে ৬ দিন তবে তা ২ থেকে ১৪ দিনও হতে পারে।করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ভাইরাসটি ২১ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। (WHO) 

রোগের কারণ

এই রোগটি গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রীয় রোগলক্ষণসমষ্টি সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস ২ (সার্স-কোভ-২) ভাইরাসের মাধ্যমে হয়ে থাকে, পূর্বে যাকে নোভেল করোনাভাইরাস বলা হতো (২০১৯-nCoV)। এটি সাধারণত শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে সৃষ্ট বায়ুকনা দিয়ে ছড়িয়ে থাকে যা শ্লেষ্মা এবং হাঁচি থেকে হয়ে থাকে।ভাইরাসটি প্লাস্টিক এবং স্টিলের উপর তিনদিন পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকতে পারে এবং অ্যারোসলে তিনঘণ্টা পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকে। ভাইরাসটি খাদ্যাংশেও পাওয়া যায় কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি নিশ্চিত নয় যেখাদ্যাংশের মাধম্যে সংক্রমন সম্ভব কি না এবং এর ঝুঁকিও কম ধরা হচ্ছে।

ফুসফুস সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে কোভিড-১৯ এর মাধ্যমে কারণ ভাইরাসটি উৎসেকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক কোষে আক্রমণ করে। এসিই২, যা প্রচুর পরিমানে রয়েছে ফুসফুসের টাইপ ২ এলভিওলার কোষে। ভাইরাসটি ‘স্পাইক’ নামে গ্লাইকোপ্রোটিন এর একটি বিশেষ পৃষ্ঠতল ব্যবহার করে এসিই২ এ যুক্ত হয় এবং নিয়ন্ত্রক কোষে প্রবেশ করে। প্রতি টিস্যুতে এসিই২ এর ঘনত্ব রোগটির ভয়াবহতা বৃদ্ধি করে দেয় এবং কারো কারো মতে এসিই২ এর কর্মদক্ষতা রোধ করা কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও অন্যদিকে অনুমান করা হয়এনজিওটেনসিন ২ গ্রাহক রোধক ব্যবহার করে এসিই২ এর বৃদ্ধি চিকিৎসায় উন্নতি করতে পারে। এই অনুমানটি অবশ্যই পরীক্ষণীয়। এলভিওলার এর সংক্রমন বৃদ্ধির ফলে শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।

ধরা হয়ে থাকে ভাইরাসটি প্রাকৃতিক যার উৎস মানুষ থেকে হতে পারে, এবং স্পিলওভার সংক্রমণেরমাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায়। এটি সর্বপ্রথম ২০১৯ এর নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে চিনের উহান শহরের মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং জানুয়ারি ২০২০ এ মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটা শুরু হয়। ১৭ নভেম্বর ২০১৯ এ প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১৪ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত ভাইরাসটির মাধ্যমে ৬৭,৭৯০ জনকে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে এবং ৩,০৭৫ জনকে মৃত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে; মৃত্যুর হার (কেস ফ্যাটালিটি রেট বা সিএফআর) ৪.৫৪%।

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯-এর (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়

নিজে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে ঘরে অবরুদ্ধ থাকা ওশারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা কোভিড-১৯ প্রতিরোধের একটি অন্যতম পদ্ধতি। বাংলাদেশ সরকার এটি মেনে চলার অনুরোধ জানালেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা মানছেননা অনেকেইবিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, করোনা সংকটে নিজে আত্ম-পৃথকীকরণ (আইসোলেশন) বা বিচ্ছিন্ন থেকে বিরাট অবদান রাখা সম্ভব। এতে জীবন বাঁচতে পারে লাখো মানুষের আর এমুহূর্তে তা মেনে চলা প্রত্যেক বাংলাদেশী নাগরীকের জন্যও অতি আবশ্যিক

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯) তথা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলি নিচে তুলে ধরা হল। এখানে স্মরণীয় যে, করোনাভাইরাস মানুষ-থেকে-মানুষে প্রধানত দুই প্রক্রিয়াতে ছড়াতে পারে। সংক্রমণের প্রথম প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে ঘটে। প্রথম ধাপ: করোনাভাইরাস-সংক্রমিত ব্যক্তি ঘরের বাইরে গিয়ে মুখ না ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলে করোনাভাইরাস তার আশেপাশের (১-২ মিটার পরিধির মধ্যে) বাতাসে কয়েক ঘন্টা ভাসমান থাকতে পারে। দ্বিতীয় ধাপ: সেই করোনাভাইরাস কণাযুক্ত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করলে অন্য ব্যক্তিদের ফুসফুসেও শ্বাসনালী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটিও কয়েক ধাপে ঘটে। প্রথম ধাপ: করোনাভাইরাস-সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কাশি শিষ্টাচার না মানেন, তাহলে তার হাতে বা ব্যবহৃত বস্তুতে করোনাভাইরাস লেগে থাকবে। দ্বিতীয় ধাপ: এখন যদি উক্ত ব্যক্তি তার পরিবেশের কোথাও যেকোনও বস্তুর পৃষ্ঠতলে সেই করোনাভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে স্পর্শ করেন, তাহলে সেই পৃষ্ঠতলে করোনাভাইরাস পরবর্তী একাধিক দিন লেগে থাকতে পারে। তৃতীয় ধাপ: এখন যদি অন্য কোনও ব্যক্তি সেই করোনাভাইরাসযুক্ত পৃষ্ঠ হাত দিয়ে স্পর্শ করে, তাহলে ঐ নতুন ব্যক্তির হাতে করোনাভাইরাস লেগে যাবে। চতুর্থ ধাপ : হাতে লাগলেই করোনাভাইরাস দেহের ভেতরে বা ফুসফুসে সংক্রমিত হতে পারে না, তাই এখন নতুন ব্যক্তিটি যদি তার সদ্য-করোনাভাইরাসযুক্ত হাতটি দিয়ে নাকে, মুখে বা চোখে স্পর্শ, কেবল তখনই করোনাভাইরাস ঐসব এলাকার উন্মুক্ত শ্লেষ্মাঝিল্লী দিয়ে দেহের ভিতরে প্রবেশ করবে ও প্রথমে গলায় ও পরে ফুসফুসে বংশবিস্তার করা শুরু করবে। এজন্য উপরে লিখিত করোনাভাইরাস ছড়ানোর দুইটি প্রক্রিয়ার শুরুতেই এবং কিংবা ছড়ানোর প্রতিটি অন্তর্বতী ধাপেই যদি করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করা যায়, তাহলে সফলভাবে এই ভাইরাস ও রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য নিচের পরামর্শগুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা সকলের আবশ্যিক কর্তব্য।

  • সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা: করোনাভাইরাস কোনও লক্ষণ-উপসর্গ ছাড়াই দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যেকোনও ব্যক্তির দেহে তার অজান্তেই বিদ্যমান থাকতে পারে। এরকম করোনাভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি যদি কোনও কারণে হাঁচি বা কাশি দেন, তাহলে তার আশেপাশের বাতাসে ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্বের মধ্যে করোনাভাইরাসবাহী জলীয় কণা বাতাসে ভাসতে শুরু করে এবং ঐ পরিধির মধ্যে অবস্থিত অন্য যেকোনও ব্যক্তির দেহে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে জনসমাগম বেশি আছে, এরকম এলাকা অতি-আবশ্যক প্রয়োজন না হলে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে যাতে বাতাসে ভাসমান সম্ভাব্য করোনাভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ না করতে পারে।
  • হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্তকরণ:

পরিবেশে অবস্থিত বিভিন্ন বস্তুতে করোনাভাইরাস লেগে থাকতে পারে, তাই এগুলি কেউ হাত দিয়ে স্পর্শ করলে তার হাতেও করোনাভাইরাস লেগে যেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে করোনাভাইরাস কাঠ, প্লাস্টিক বা ধাতুর তৈরী বস্তুর পৃষ্ঠে গড়ে চার থেকে পাঁচ দিন লেগে থাকতে পারে। মানুষকে জীবনযাপনের প্রয়োজনে এগুলিকে প্রতিনিয়তই হাত দিয়ে স্পর্শ করতে হয়। তাই এগুলি স্পর্শ করার পরে হাত ভাল করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরী। নিম্নলিখিতহাত স্পর্শ করার ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে।

  • অন্য কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বস্তু যা হাত দিয়ে ঘনঘন স্পর্শ করা হয়, যেমন মোবাইল ফোন (মুঠোফোন), ল্যাপটপ, ইত্যাদি নিজ হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
  • বহুসংখ্যক ব্যক্তি স্পর্শ করে এমন যন্ত্র, যেমন এটিএম যন্ত্র (নগদ টাকা প্রদানকারী যন্ত্র) ও অন্য কোনও যন্ত্রের (যেমন দোকানের বা অন্য কোনও স্থানের ল্যাপটপ, কম্পিউটারের মনিটর) বোতাম, চাবি, কিবোর্ড ও হাতল হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
  • নিজ বাসগৃহের বাইরের যেকোনও আসবাবপত্র (চেয়ার, টেবিল, ইত্যাদি) হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
  • নিজ বাসগৃহের বাইরের যেকোনও কামরা বা যানবাহনের দরজার হাতল হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
  • কাগজের টাকা, ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, ইত্যাদি এবং এগুলি যেখানে রাখা হয়, যেমন ওয়ালেট বা পার্স ইত্যাদির অভ্যন্তরভাগ হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
  • রেস্তোরাঁ বা অন্য যেকোনও খাবার বিক্রয়কারী দোকানের থালা-বাসন-বাটি-পাত্র বা বোতল-গেলাস হাত দিয়ে স্পর্শ করা। এইসব তৈজসপত্র বহু ব্যক্তি স্পর্শ করেন এবং এগুলিকে সবসময় সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে কি না, তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
  • ঘরের বাইরে যেকোনও স্থানের হাত মোছার তোয়ালে বা রুমাল যা একাধিক ব্যক্তি স্পর্শ করে, সেগুলিকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
  • ঘরের বাইরে রাস্তায় বা অন্যত্র কারও সাথে করমর্দন করা (হাত মেলানো) বা কোলাকুলি করা বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা।

উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলিতে হাত দিয়ে স্পর্শের পরে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং যত ঘনঘন সম্ভব হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। নিম্নলিখিত হাত ধোয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে:

  • প্রথমে হাত পরিষ্কার পানিতে ভাল করে ভিজিয়ে নিতে হবে।
  • এর পর হাতে বিশেষ জীবাণুমুক্তকারক সাবান (সম্ভব না হলে সাধারণ সাবান) প্রয়োগ করতে হবে ও ফেনা তুলে পুরো হাত ঘষতে হবে।
  • হাতের প্রতিটি আঙুলে যেন সাবান লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে, এজন্য এক হাতের আঙুলের ফাঁকে আরেক হাতের আঙুল ঢুকিয়ে ঘষে কচলাতে হবে।
  • দুই হাতের বুড়ো আঙুল সাবান দিয়ে ঘষা নিশ্চিত করতে হবে।
  • এক হাতের তালুর সাথে আরেক হাতুর তালু ঘষতে হবে এবং এক হাতের তালু দিয়ে আরেক হাতের পিঠও সম্পূর্ণ ঘষতে হবে।
  • প্রতিটি নখের নিচেও ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
  • ঘড়ি, আংটি বা অন্য যেকোন হাতে পরিধেয় বস্তু খুলে সেগুলির নিচে অবস্থিত পৃষ্ঠও পরিষ্কার করতে হবে।
  • কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ফেনা তুলে ভাল করে হাত ঘষতে হবে।
  • পাত্রে রাখা স্থির পানিতে নয়, বরং পড়ন্ত পরিষ্কার পানির ধারাতে হাত রেখে ভাল করে হাত ধুয়ে সম্পূর্ণ সাবানমুক্ত করতে হবে।
  • হাত ধোয়ার পরে তোয়ালে কিংবা রুমাল নয়, বরং একবার ব্যবহার্য কাগজের রুমাল দিয়ে সম্পূর্ণরূপে হাত শুকিয়ে নিতে হবে, কেননা গবেষণায় দেখা গেছে যে ভেজা হাতে ভাইরাস ১০০ গুণ বেশী বংশবিস্তার করে। একাধিক ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে দিয়ে হাত শুকানো যাবে না, এবং একই তোয়ালে দিয়ে বারবার হাত শুকানো যাবে না, তাই একবার-ব্যবহার্য কাগজের রুমাল ব্যতীত অন্য যেকোনও ধরনের তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • হাত শুকানোর কাগজের রুমালটি দিয়ে ধরেই পানির কল বন্ধ করতে হবে এবং শৌচাগারের দরজার হাতল খুলতে হবে। পানির কল ও শৌচাগারের দরজার হাতলে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে।এরপর কাগজের রুমালটি ঢাকনাযুক্ত বর্জ্যপাত্রে ফেলে দিতে হবে।
  • যেহেতু দিনে বহুবার হাত ধুতে হবে, তাই ত্বকের জন্য কোমল সাবান ব্যবহার করা শ্রেয়।
  • সাবান-পানির ব্যবস্থা না থাকলে কমপক্ষে ৬০% অ্যালকোহলযুক্ত বিশেষ হাত জীবাণুমুক্তকারক দ্রবণ (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) দিয়ে হাত কচলে ধুতে হবে। তবে সুযোগ পেলেই নোংরা হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া সবচেয়ে বেশী উত্তম।

কখন হাত ধুতে হবে, তা জানার জন্য নিচের নির্দেশনাগুলি মনে রাখা জরুরি:

  • নাক ঝাড়ার পরে, কাশি বা হাঁচি দেবার পরে হাত ধোবেন।
  • যেকোনও জনসমাগমস্থল যার মধ্যে গণপরিবহন, বাজার কিংবা উপাসনাকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত, সেগুলিতে পরিদর্শন করার পরেই হাত ধোবেন।
  • বাসা থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাবার পর হাত ধোবেন।
  • কর্মস্থল থেকে বাসায় পৌঁছাবার পর হাত ধোবেন।
  • ঘরের বাইরের যেকোনও বস্তুর পৃষ্ঠতল হাত দিয়ে স্পর্শ করার পরে হাত ধোবেন। (উপরে হাত স্পর্শ করার ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি দেখুন)
  • যেকোনও রোগীর সেবা করার আগে, সেবা করার সময়ে বা তার পরে হাত ধোবেন।
  • খাবার আগে ও পরে হাত ধোবেন।
  • শৌচকার্য করার পরে হাত ধোবেন।
  • বর্জ্যপদার্থ ধরার পরে হাত ধোবেন।
  • পোষা প্রাণী বা অন্য যে কোনও প্রাণীকে স্পর্শ করার পরে হাত ধোবেন।
  • বাচ্চাদের ডায়পার (বিশেষ জাঙ্গিয়া) ধরার পরে বা বাচ্চাদের শৌচকার্যে সাহায্য করার পরে হাত ধোবেন।
  • হাত যদি দেখতে নোংরা মনে হয়, তাহলে সাথে সাথে হাত ধোবেন।
  • হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন এক রোগী থেকে আরেক রোগী বা অন্য যেকোনও ব্যক্তির দেহে যেন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে না পারে, সেজন্য সেখানে কর্মরত সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে নিম্নের ৫টি মুহূর্তে অবশ্যই হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে : রোগীকে স্পর্শ করার আগে, পরিষ্কারকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি প্রয়োগের আগে, রোগীর দেহজ রস বা তরল গায়ে লাগার সম্ভাবনা থাকলে ঠিক তার পরপর, রোগীকে স্পর্শ করার পর এবং রোগীর আশেপাশের পরিবেশ স্পর্শ করার পর।

নক্ষত্রের বিবর্তন

তারার বিবর্তন

শিরোনামের বিবরণ যোগ করুন


জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় একটি তারা তার সমগ্র জীবনচক্রে যে সকল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় তার ধারাকে তারার বিবর্তন বলা হয়। এই জীবনচক্র হতে পারে শত শত মিলিয়ন বা বিলিয়ন বর্ষ। এই পুরো সময়ে ধীরে ধীরে তারার মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। তারার এই বিবর্তন একটিমাত্র তারা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গবেষণা করা সম্ভব নয়; কারণ এই পরিবর্তনগুলো খুব ধীর প্রক্রিয়া। তাই জ্যোতিৎপদার্থবিজ্ঞানীরা একটির বদলে অনেকগুলো তারার জীবনচক্র পর্যবেক্ষণ করে সমগ্র ধারণাটি নেয়ার চেষ্টা করেন। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও অবস্থায় কৃত এই পর্যবেক্ষণগুলো কম্পিউটার মডেলের সাথে সম্মিলিত করে গবেষণা করা হয়।সূর্যের জীবনের গবেষণালব্ধ কালপঞ্জি

তারার প্রাথমিক উপাদান

তারা হল একটি জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড যা গ্যাস এবং ধূলিকণার সমন্বয়ে গঠিত। তারা সৃষ্টি প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময়ে। ধারণামতে, মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয় একটি মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে। তারা সৃষ্টির পূর্বে মহাকাশেরবিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে শীতল হাইড্রোজেনহিলিয়ামএবং অন্যান্য গ্যাসের পরমাণু বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। এই অবস্থাকে গ্যাসের ধূলিমেঘ বা Dust Cloud বলা হয়। এতে ৭৫% হাইড্রোজেন, ২৪% হিলিয়াম এবংকার্বননাইট্রোজেনঅক্সিজেন সহ অন্যান্য গ্যাস ১% ছিল। আর এই হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামই ছিল তারা সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদান। এছাড়াও এখনও বিভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যবর্তী স্থানে যে পাতলা বাষ্পীয়হাইড্রোজেন মেঘ আছে তা থেকেও তারা সৃষ্টি হতে পারে। এই গ্যাসেসমূহের ঘনত্ব সর্বত্র সমান না হলেও গড়ে প্রতি ঘনমিটার এলাকায় ১০ কোটি পরমাণু থাকে।চিত্র:Star evolution.JPGতারার বিবর্তন

ভ্রুণ তারা

পরমাণুসমূহ তড়িৎ নিরপেক্ষ হওয়ায় এদের মধ্যে কোন বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল ছিলনা, বরং কেবল মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা ধীরে ধীরে জমাট বাঁধতে থাকে। দূরত্ব কমে যাওয়ায় এদের স্থিতিশক্তি কমে যায়, আর শক্তির নিত্যতা বজায় রাখার জন্য বৃদ্ধি পায় গতিশক্তি। স্বভাবতই পরমাণুগুলোর মধ্যকার সংঘষরএর সংখ্যা বেড়ে যায়। সংঘর্ষ আর গতিশক্তির মিলিত প্রভাবে তাপমাত্রও বেড়ে যায়। ফলে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যখন পরমাণুসমূহ স্বতঃই কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তখনই কেন্দ্রের নিকটবর্তী অংশের ঘনত্ব ও তাপমাত্রা উভয়ই অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির এ পর্যায়ে গ্যাসপিন্ডটি থেকে বিকিরিত শক্তির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং এর ফলশ্রুতিতে এ থেকে অবলোহিত আলো নিগর্ত হয়। সঙ্কোচনের ফলে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে যখন ১০ কেলভিনে পৌঁছায় তখনই কেন্দ্রীন সংযোজন বিক্রিয়া (Nuclear Fusion Reaction) শুরু হয়। অর্থাৎ গ্যাসপিন্ডটির অভ্যন্তরেহইড্রোজেনের আইসোটোপসমূহ মিলিত হয়েহিলিয়ামে পরিণত হতে শুরু করে। এই বিক্রিয়ার ফলে যে বিপুল পরিমাণ বহির্চাপের সৃষ্টি হয় তা গ্যাসপিন্ডের সঙ্কোচনে বাঁধা দেয়। যখন এই বহির্চাপ এবং সংকোচন বল সমান হয় তখন সুস্থিত অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং একে একটি ভ্রুণ তারা (Protostar) বলে চিহ্নিত করা হয়। এসব থেকে নির্গত অবলোহিত আলো থেকেই এদের অবস্থান চিহ্নিত করা যায়।

এখনও বিভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যবর্তী হাইড্রোজেন গ্যাসের মেঘ থেকে ভ্রুণ তারা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে প্রশমেই গ্যাসের এই মেঘ কোন কোন স্থানে অধিক পুঞ্জীভূত হয়ে যায়। আর এ থেকে একই প্রক্রিয়ায় ভ্রুণ তারার সৃষ্টি হয়। উদাহরণ হিসেবে কালপুরুষ মন্ডলেরকোমরের তরবারীর মধ্যে থিটা অরিয়নিস নামক তারার চারদিকে বিরাজমান নীহারিকাটির উল্লেখ করা যায়। এই নীহারিকায় তারা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টির আদিতে এরকম ধ্বংসোন্মুখ জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড থেকে মোটেই একটিমাত্র তারা উৎপন্ন হতোনা। বরং শত শত তারা সৃষ্টি হতো এবং এদের সমন্বয়ে একটি নক্ষত্রপুঞ্জ সৃষ্টি হতো। বয়স যতই বাড়তে থাকতো ততই নক্ষত্রপুঞ্জের আকার এবং এর তারাগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকতো এবং একসময় তারাগুলো পৃথক হয়ে যেতো। এভাবেই জন্ম হতো স্বাধীন তারার। বিজ্ঞানীদের ধারণামতে সূর্যনামক মাঝারি ধরনের এই তারাটি আজ থেকে ৫০০ কোটি বছর পূর্বে এভাবেই অস্তিত্ব লাভ করেছিল।

ধূসর বামন তারা

জন্মের পর একটি ভ্রুণ তারার বিবর্তন তার ভরের উপর নির্ভরশীল। পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা গেছে যে সমস্ত ভ্রুণ তারার ভর সূর্যের ভরের চেয়ে এক দশমাংশ কম তাদের কেন্দ্রে সৃষ্ট তাপের পরিমাণকেন্দ্রীন বিক্রিয়া শুরু করার মত যথেষ্ট হয়না। কেবল চাপজনিত তাপের কারণে সেটিকে উজ্জ্বল দেখায় এবং পৃষ্ঠটান ধর্মের কারণে তা গোলাকার রূপ লাভ করে। তখন একে ধূসর বর্ণের দেখায়। একে ধূসর বামন তারা বলা হয়। উদাহরণস্বরুপ, সৌরজগতেরবৃহস্পতি গ্রহটি ধূসর বামন। উজ্জ্বলতা কম থাকায় এদের সহজে দেখা না গেলেও ছায়াপথের অধিকাংশ ভরের জন্যই এরা দায়ী। সৃষ্টির পর দীর্ঘকাল এরা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে।

প্রধান ধারার তারা

যেসকল তারার ভর সূর্যের ভরের কাছাকাছি বা তা থেকে বেশি তাদেরকে প্রধান ধারার তারা বলা হয়। এদের বিবর্তন কয়েক প্রকারে হয়ে থাকে।

কেন্দ্রীন সংযোজন বিক্রিয়া

তারা ভ্রুনটির কেন্দ্রের তাপমাত্রা ১০ কেলভিন হলে কেন্দ্রীন বিক্রিয়া শুরু হয়। উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঘনত্বের কারণে প্রোটনসমূহের গতিবেগ বৃদ্ধি পায় নিউক্লিয় বিভব বাঁধা অতিক্রম করার ফলে এতে কেন্দ্রীন সংযোজন বিক্রিয়া শুরু হয়। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে সংঘটিত সকল বিক্রিয়াকেই কেন্দ্রীন বিক্রিয়া বলা হয় এবং দুটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসকেপরষ্পরের সংস্পর্শে আনতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয় তা-ই হল নিউক্লিয় বিভব বাঁধা। বিজ্ঞানীহ্যান্স বেথে কর্তৃক ১৯৩৮ সালে Energy Production is Stars শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধ হতে জানা যায় এই কেন্দ্রীন বিক্রিয়া দুই প্রকারেরঃ প্রোটন-প্রোটন চক্রএবং কার্বন-কার্বন চক্র

সকল প্রানির ফুসফুস ও এর কাজ

ফুসফুস

শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহৃত মেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি অঙ্গ


ফুসফুস মেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি অঙ্গ যা শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহৃত হয়। এই শ্বাসযন্ত্রটির প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে নেওয়া এবং রক্তপ্রবাহ হতে কার্বন ডাই-অক্সাইডকেবাতাসে নিষ্কাশন করা। এই গ্যাস আদান-প্রদান করা হয় বিশেষায়িত কোষ দ্বারা তৈরী, খুবই পাতলা দেয়াল বিশিষ্ট লক্ষাধিক বায়ু থলির দ্বারা যাকে অ্যালভীওলাই বলে। এর শ্বাসকার্য ছাড়া অন্য কাজও আছে। ফুসফুস সংক্রান্ত মেডিকেল পরিভাষা শুরু হয় পালমো- (pulmo-),[ল্যাটিন-পালমোনারিয়াস (pulmonarious) (“ফুসফুসের”)] অথবা নিউমো- (pneumo-)[গ্রিক- πνεύμω “ফুসফুস”] দ্বারা।ফুসফুস সমূহ হৃৎপিন্ড ও বৃহৎ ধমনীগুলোকে বক্ষগহব্বরের ভেতর চারপাশ হতে জরিয়ে রেখেছে। (Source: Gray’s Anatomy of the Human Body, 20th ed. 1918.)বায়ু ফুসফুসে ঢোকে ও বেড়িয়ে যায় তরুনাস্থিময় নল — ব্রংকাই এবং ব্রংকিওল এর মধ্য দিয়ে। এই চিত্রে, ব্রংকিওল দেখানোর জন্য ফুসফুসকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে, 20th ed. 1918.)

শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত কাজ

অ্যারোবিক রেসপিরেশন দ্বারা শক্তি উৎপাদনে অক্সিজেন প্রয়োজন এবং উপজাত হিসাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। ফলে কার্যকরভাবে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ এবং কোষ হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করার প্রযোজনীয়তা তৈরি হয়। ক্ষুদ্রজীবে, যেমন এককোষী ব্যাকটেরিয়ায়, এই বায়ু বিনিময় পদ্ধতি পুরোপুরিভাবে সরল ব্যপনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। বৃহৎ জীবে যা সম্ভব নয়, কারণ বায়ুমন্ডল হতে ব্যপনের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করার জন্য ক্ষুদ্র একটি অংশই মাত্র তার বহিরাবরনের নিকটে থাকে। দুটি প্রধান অভিযোজন জীবের জন্য বহুকোষীয়তা অর্জন সম্ভব করেছে: একটি কার্যকারী সংবহনতন্ত্র (circulatory system) যা দেহের গভীরতম কলাসমূহে রক্তের মাধ্যমে গ্যাসের আদান প্রদান করে, এবং একটি বৃহৎ অভ্যন্তরীণায়ীত শ্বসনতন্ত্র (respiratory system) যা বায়ুমন্ডল হতে অক্সিজেন আহরণ করে দেহে সর্বরাহ করার কাজকে কেন্দ্রীভূত করে, যেখান থেকে একে দ্রুত সংবহনতন্ত্রে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।

বায়ু-শ্বাসী মেরুদন্ডীদের শ্বাসপ্রশ্বাস একটি ধারাবাহিক পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। বায়ু শ্বাসনালীর মাধ্যমে প্রাণীর ভেতরে প্রবেশ করে- যা সরিসৃপ, পাখী এবং স্তন্যপায়ী প্রানীর ক্ষেত্রে প্রায়শ নাক, ফ্যারিংক্স, ল্যারিংক্স,ট্রাকিয়া (বায়ুনালীও বলা হয়), ব্রাংকাই ও ব্রাংকিওল; এবং শ্বসন বৃক্ষের (respiratory tree) প্রান্তিক প্রশাখা সমূহ দ্বারা গঠিত। স্তন্যপায়ী প্রানীর ফুসফুসগুলো প্রচুর অ্যালভিওলাইয়ের দ্বারা গঠিত, যা বায়ু বিনিময়ের জন্য বৃহৎ পৃষ্ঠতল সরবরাহ করে থাকে। অ্যালভিওলাইয়ের পৃষ্ঠদেশের উপরে সূক্ষ কৌশিকনালীর একটি জালিকার ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচল করে। বায়ু হতে প্রাপ্ত অক্সিজেন অ্যালভিওলাইয়ের ভিতরে রক্তপ্রবাহে ব্যপিত হয়, এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড রক্ত হতে অ্যালভিওলাইয়ে ব্যপিত হয়, উভয়ই পাতলা অ্যালভিওলিয় পর্দার (alveolar membrane) ভেতর দিয়ে সম্পন্ন হয়।

বায়ু টানা এবং ছাড়া ঘটে থাকে পেশীর দ্বারা; আদিযুগের চতুশ্পদ্বীদের ক্ষেত্রে, ফুসফুসে বায়ু টেনে নিত ফ্যারিন্জিয় পেশী, পক্ষান্তরে সরীসৃপ, পাখী এবং স্তন্যপায়ীরা আরও জটিল পেশীকংকালতন্ত্র ব্যবহার করে। স্তন্যপায়ীতে একটি বড় পেশী, ডায়াফ্রাম(তদুপরি অন্তস্থঃ আন্তঃপাজরীয় পেশীসমূহ), বায়ু চলাচল চালায় পর্যায়ক্রমিকভাবে আন্তঃবক্ষীয় (intra-thoracic) আয়তন ও চাপ পরিবর্তনের মাধ্যমে; আয়তনের বৃদ্ধি ঘটালে এবং সেকারণে ভেতরের চাপ কমে গিয়ে বায়ুপথ দিয়ে বায়ু ভিতরে প্রবেশ করে, এবং আয়তন হ্রাস ও চাপ বাড়িয়ে এর বিপরীত ঘটনা ঘটান হয়। স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে, শ্বাসত্যাগ একটা অক্রিয় ঘটনা যেখানে কোন পেশী সংকোচন হয় না (মদ্ধোচ্ছদা শিথিল থাকে)।

এই বায়ু টেনে নেওয়া এবং ছাড়ার আরেক নাম বায়ুচলন (ventilation)। সর্বোচ্চ পরিমাণ বায়ু টেনে নেওয়ার পর সর্বোচ্চ যে পরিমাণ বায়ু একজন ব্যক্তি নিঃসৃত করতে পারে তাকে অপরিহার্য ধারনক্ষমতা (Vital capacity) বলা হয়। একজন ব্যক্তির অপরিহার্য ধারনক্ষমতা স্পাইরোমিটারের (spirometry) সাহায্যে নির্ণয় করা যায়। অন্যান্য শরীরবৃত্ত্বিয় পরিমাপের সমন্নয়ে, অপরিহার্য ধারনক্ষমতা ফুসফুসের রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে।

শ্বাসপ্রশ্বাস ছাড়া অন্যান্য কাজ

বায়ু বিনিময় ও হাইড্রজেন আয়ন ঘনত্ব নিয়ন্ত্রনের মত শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও ফুসফুস আরও যেসকল কাজ করে থাকে সেগুলো হলো:

  • ধমনীয় রক্তে ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত ‘প্রানীদেহে কার্যকর সক্রিয় বস্তু’ ও ‘ঔষধ-উপাদানের ঘণত্ব’ প্রভাবিত করে।
  • শিরায় তৈরি হওয়া ছোট রক্ত পিন্ড অপসারন করে।
  • হৃৎপিন্ডের প্রতিরক্ষার জন্য নরম, ঘাতসহ স্তর হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যা প্রায় চারপাশে হতেহৃৎপিন্ডকে ঘিরে থাকে।

স্তন্যপায়ীর ফুসফুস

স্তন্যপায়ীর ফুসফুসের বুনট স্পঞ্জের মত এবং এপিথেলিয়ামের স্তর দ্বারা গঠিত এর কুন্চিত অন্তস্থঃতল বহিস্থঃতল অপেক্ষা অনেক বড়। মানুষের ফুসফুস এজাতীয় ফুসফুসের প্রতিনিধিত্বকারী।

এ্যানাটমী

মানবদেহে ট্রাকিয়া দুই ভাগ হয়ে দুটি প্রধান ব্রংকাই গঠন করেছে যা ফুসফুসদ্বয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। ফুসফুসের ভেতর ব্রংকাই আরো বহুবার বিভক্ত হয়ে ব্রংকিওল গঠন করে। ব্রংকিয়াল ট্রি আরও বিভক্ত হয়ে টারমিনাল ব্রংকিওলে গিয়ে শেষ হয়, যা অ্যালভিওলার স্যাকের সাথে যুক্ত। প্রতিটি অ্যালভিওলার স্যাক আঙ্গুরের ঝোপার মত অ্যালভিওলাইয়ের গুচ্ছের সমন্নয়ে গঠিত। প্রতিটি অ্যালভিওলাই রক্তনালীর দ্বারা আষ্টেপৃষ্ঠে মোরানো থাকে এবং প্রকৃতপক্ষে এখানেই গ্যাস বিনিময় হয়ে থাকে। অক্সিজেনশূন্য রক্ত হৃৎপিন্ড হতে পালমোনারী ধমনীর মধ্য দিয়ে ফুসফুসে সঞ্চালিত হয়, যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময়ে অক্সিজেন রক্তেরলোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লবিনে ব্যপিত হয়। অক্সিজেনপূর্ণ রক্ত পালমোনারী শিরার মধ্য দিয়ে হৃৎপিন্ডে পৌছে এবং সেখান হতে তা সিস্টেমিক সারকুলেশনে (তান্ত্রিক রক্তসঞ্চালন) সঞ্চালিত হয়।ব্রংকাই, ব্রংকিয়াল ট্রি, এবং ফুসফুস. (নিচে বাঁমদিকে হৃৎপিন্ডিয় খাজ দেখান হয়েছে।)

মানব ফুসফুস হৃৎপিন্ডের দুপাশে অবস্থিত যা প্লুরাপর্দা দ্বারা আবৃত। এক রকম দেখতে হলেও, ফুসফুস দুটি হুবহু অনুরুপ নয়। উভয়ই কতগুলো লোব-এ বিভক্ত, ডানে তিনটি এবং বামে দুটি। প্রতিটি লোব কতগুলো লোবিউলে বিভক্ত, যা খালি চোখে দৃষ্টিগোচর ফুসফুসের খুদ্রতম ষড়ভুজাকৃতি অংশ। ধুমপায়ী ও শহুরে মানুষদের লোবিউলকে বিভক্তকারী কানেক্টিভ টিস্যু (যোজক কলা) প্রায়শ কালচে রং ধারন করে। ডান ফুসফুসের মধ্যবর্তী সীমারেখা প্রায় উল্লম্ব, যেখানে বাম ফুসফুসে একটি কার্ডিয়াক নচ (হৃদ খাঁজ) থাকে। কার্ডিয়াক নচ হলো হৃৎপিন্ডের আকার অনুযায়ী তাকে ধারন করার উপযোগী একটি অবতল জায়গা। ফুসফুসগুলো ক্ষেত্র বিশেষে “অতিগঠিত” এবং এদের সংরক্ষিত আয়তন বিশ্রামাবস্থায় নির্ধারীত অক্সিজেন বিনিময়ের আয়তন হতে অনেক বেশি। এ কারণেই ফুসফুসের ক্ষমতা লক্ষণীয়ভাবে না কমেও কোন ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধূমপান করে যেতে পারেন। এধরনের ক্ষেত্রে ফুসফুসের একটি ক্ষুদ্র অংশেই গ্যাস বিনিময়ের জন্য রক্ত সরবরাহ হয়ে থাকে। ব্যায়ামের ফলে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেলে, ফুসফুসের অপেক্ষাকৃত বৃহৎ অংশে রক্ত সরবহৃত হয়, যা শরীরের প্রয়োজনীয় CO2/O2 বিনিময়কে সম্ভব করে তোলে।

ফুসফুসের অন্তর্ভাগ অতন্ত আর্দ্র, যা ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধিতে উপযোগী। অনেক শ্বাসতান্ত্রীক অসুস্থতার জন্য ফুসফুসের এই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত প্রদাহ দায়ী।

এভিয়ান (পাখির) ফুসফুস

স্তন্যপায়ীর ন্যায় পাখির ফুসফুসে অ্যালভিওলাই দ্বারা গঠিত নয়। তার বদলে এটি লক্ষাধিক সরু প্যারাব্রংকাই দ্বারা গঠিত, যা উভয় দিকে ডর্সোব্রংকাই (পশ্চাৎ-ব্রংকাই) ও ভেন্ট্রব্রংকাই (সম্মুখ-ব্রংকাই) এর সাথে যুক্ত। বায়ু প্যারাব্রংকাইয়ের মৌচাক সদৃশ্য দেয়ালের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বায়ু-কৌশিকনালিতে (air capillaries) প্রবেশ করে, যেখানে বিপরীতগামী রক্ত-কৌশিকনালির সাথে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সিইড বিনিময় হয়। এই বিনিময় হয় ব্যাপনের মাধ্যমে, যা একটি বিপরীত ঘনত্বগামী বিনিময় পদ্ধতি।

এভিয়ান ফুসফুসে দুই সেট বায়ুথলী থাকে, একটি সামনের দিকে এবং অন্যটি পেছনের দিকে। শ্বাস নিলে, বায়ু পেছনের দিকে কডাল থলীতে প্রবাহিত হয় এবং অল্প একটি অংশ সামনের দিকে প্যারাব্রংকাইয়ের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয় ও ক্রেনিয়াল বায়ুথলীতে রক্তকে অক্সিজেনাইত করে। শ্বাস ছাড়লে, ক্রেনিয়াল বায়ুথলীর অক্সিজেনহীন বায়ু বেড়িয়ে যায়, এবং এরপর কডাল থলীতে রক্ষিত অক্সিজেনপূর্ণ বায়ু প্যারাব্রংকাই হয়ে ক্রেনিয়াল বায়ুথলীর অবশিষ্ট বায়ুসহ বেড়িয়ে যায়। এভিয়ান ফুসফুসের ভিতর দিয়ে প্রবিহিত বায়ু-প্রবাহ যেন একই দিকে চালিত হয়- পেছন থেকে সামনে, তা বায়ু থলীর এই জটিল পদ্ধতি নিষ্চিৎ করে। এটি স্তণ্যপায়ী প্রাণির শ্বসণ পদ্ধতি হতে পৃথক, যেখানে ফুসফুসে বায়ুপ্রবাহ জোয়ার-ভাটার মত, শ্বাস গ্রহণ ও বর্জন পরস্পর বিপরীত। একমুখী বায়ুপ্রবাহ ব্যবহারের জন্য, এ্যভিয়ান ফুসফুস শ্বাস নেওয়া বায়ু হতে সর্ব্বোচ্চ আক্সিজেন নিষ্কাসন করতে পারে। এজন্য পাখিরা যত উচ্চতায় উড়তে পারে তত উচুতে স্তন্যপায়ীরা হাইপোক্সিয়ায় মারা যাবে এবং সমওজন বিশিষ্ট স্তন্যপায়ী হতে তারা উচ্চ বিপাকীয় হারও বযায় রাখতে পারে। তন্ত্রের জটিলতার কারণে, ভুলবোঝাবুঝিও বেশি এবং এটা অসমর্থিতভাবে বিশ্বাস করা হয় যে পুরো শ্বসন তন্ত্রে বায়ু একবার ঘুরে আসতে এদেরকে দুইটি শ্বাস চক্র সম্পন্ন করতে হয়। পাখির ফুসফুস দুটি শ্বসন চক্রের মধ্যবর্তী সময়ে কোন থলেতেই বায়ু ধরে রাখে না, পুরো শ্বসনকার্যেই বায়ু পেছন হতে সামনের থলেতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। এই ধরনের ফুসফুসের গঠনকে বলে সঞ্চালনী ফুসফুস (circulatory Lung) যা বেশিরভাগ প্রাণী ব্যবহৃত হাপর ফুসফুস (bellows lung) হতে পৃথক।

সরীসৃপ ফুসফুস

এ্যাক্সিলারি পেশী দ্বারা পাঁজরের সম্প্রসরন ও প্রসারন এবং মুখবিবরীয় সঞ্চালনের (buccal pumping) মাধ্যমে সাধারণত রেপ্টাইলিয়ান ফুসফুসে বায়ু চলাচল করে থাকে। ক্রকোডাইলিয়ানরা হেপাটিকপিস্টোন পদ্ধতিও ব্যাহার করে। যেখানে পিউবিক অস্থির (শ্রোণীচক্রের একটি অস্থি) সাথে একটি পেশী দ্বারা সংযুক্ত যকৃৎ পেছন দিকে সরে আসে, ফলে ফুসফুসের নিম্নতল পেছন দিকে নেমে এসে ফুসফুসকে সম্প্রসারিত করে।

উভচরী ফুসফুস

ব্যাঙ ও অন্যান্য উভচরের ফুসফুস গঠন বেলুনের মত, যেখানে বায়ু বিনিময় শুধু ফুসফুসের বহিরাবরনণেই সীমিত। যদিও এটি খুব পর্যাপ্ত নয়, কিন্তু উভচরদের শ্বসন হার খুব কম এবং তাদের আর্দ্র বহিরাবরনে মাধ্যমেও বায়ু দেহে ব্যাপনের মাধ্যমে প্রবেশ করে সেই অভাব পূরণ করে। স্তন্যপায়ীর বিপরীতে, যাদের শ্বাসতন্ত্র ঋণাত্মক চাপের দ্বারা পরিচালীত হয়, উভচরীরা ধনাত্মক চাপের মাধ্যমে তা কর্যকর করে। এটা লক্ষনীয় যে স্যালামেন্ডার প্রজাতির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ফুসফুসবিহীন স্যালামেন্ডার এবং তারা তাদের শ্বাসকার্য তাদের ত্বক ও মুখগহব্বরের আবরনের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে।

অমেরুদন্ডী ফুসফুস

কিছু অমেরুদন্ডী প্রাণীর “ফুসফুস” আছে যা একই রকম শ্বাসতান্ত্রীক কাজ করে থাকে কিন্তু তার সাথে মেরুদন্ডীদের ফুসফুসের কোন বিবর্তনিক যোগসূত্রা নেই। কিছু অ্যারাকনাইড-এর “বুক লাংক্স” নামক ব্যাবস্থা আছে যার দ্বারা বাইরে থেকে ভেতরে বায়ু বিনিময় ঘটে। কোকোনাট ক্র্যাব ব্রংকিওস্টেগালনামক অঙ্গের সাহায্যে বায়ু হতে শ্বাস নিয়ে পানিতে ডুব দেয় এবং পানির নিচে শ্বাস ধরে রাখে।পালমোন্যাটা হলো শামুক ও স্লাগের একটি বর্গ যাদের “ফুসফুস” গঠিত হয়েছে।

উৎপত্তি

আজকের ভূচরী মেরুদন্ডীর ফুসফুস এবং মাছেরগ্যাস ব্লাডার প্রাণীর ইন্টেস্টাইনের উপরের অংশের সামান্য ভাঁজ হতে বিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, যা প্রাণীকে অক্সিজেন-সল্পতায় বায়ু ধরে রাখতে সাহায্য করতো। সেই জন্য মেরুদন্ডীর ফুসফুস মাছের গ্যাস ব্লাডারের সদৃশ্য (কিন্তু তাদের ফুলকার সঙ্গে নয়)। এই বিষয়টি দ্বারা প্রতিফলিত হয় যে ভ্রুণের ফুসফুস ইন্টেস্টাইনের উর্ধাংশের পার্শ্ব বিকাশের ফল এবং গ্যাস ব্লাডারের ক্ষেত্রে, এই অন্ত্রের সাথের সংযোগনিউমেটিক ডাক্ট হিসাবে ‘আদিম” টেলিওষ্ট-দের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আছে এবং উচ্চ শ্রেণীগুলোতে যা বিলুপ্ত হয়েছে। ফুসফুস ও গ্যাস ব্লাডার উভয় প্রত্যঙ্গ বিশিষ্ট কোন প্রাণীর অস্তিত্ব নেই।

কৃষ্ণগহ্বর

কৃষ্ণগহ্বর

অকল্পনীয় মহাকর্ষের অধিকারী মহাজাগতিক বস্তু


কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণ বিবর (ব্ল্যাক হোল নামেও পরিচিত) মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকেও(যেমন: আলো) নয়। প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন কিছুই পালাতে পারে না। অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের ধারণার ভিত্তিতে কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

অতিবৃহৎ উপবৃত্তাকার ছায়াপথ মেসিয়ে ৮৭ এর কেন্দ্রে অবস্থিতঅতিভারী কৃষ্ণগহ্বরটির ভর সূর্যের ৭০০ কোটি গুণ। ১০ এপ্রিল ২০১৯ সালে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ দ্বারা প্রকাশিত প্রথম ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে। ছবিতে কৃষ্ণগহ্বরটির অর্ধচন্দ্রাকার নিঃসরণ বলয় এবং কেন্দ্রীয় ছায়া দেখা যাচ্ছে, যা এর ঘটনা দিগন্তের যথাক্রমে ফোটন বলয় এবং বন্দী ফোটন বিশিষ্ট অঞ্চলের মহাকর্ষীয়ভাবে বিবর্ধিত দৃশ্য। কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণনের ফলে এই অর্ধচন্দ্রের মত আকার সৃষ্টি হয়; এবং এই কেন্দ্রীয় ছায়ার ব্যাস ঘটনা দিগন্তের ২.৬ গুণ।দ্রুত তথ্য: প্রাথমিক ধারণা, আপেক্ষিকতা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ …মহাকর্ষীয় লেন্স প্রভাবের অনুকরণ (বৃহত্তর চলচ্চিত্র)

সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে, কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের এমন একটি বিশেষ স্থান যেখান থেকে কোন কিছু, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না। এটা তৈরি হয় খুবই বেশি পরিমাণ ঘনত্ব বিশিষ্ট ভর থেকে। কোন অল্প স্থানে খুব বেশি পরিমাণ ভর একত্র হলে সেটা আর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। আমরা মহাবিশ্বকে একটি সমতল পৃষ্ঠে কল্পনা করি। মহাবিশ্বকে চিন্তা করুন একটি বিশাল কাপড়ের টুকরো হিসেবে এবং তারপর যদি আপনি কাপড়ের উপর কোন কোন স্থানে কিছু ভারী বস্তু রাখেন তাহলে কি দেখবেন? যেইসব স্থানে ভারি বস্তু রয়েছে সেইসব স্থানের কাপড় একটু নিচু হয়ে গিয়েছে। এই একই বাপারটি ঘটে মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে। যেসব স্থানে ভর অচিন্তনিয় পরিমাণ বেশি সেইসব স্থানে গর্ত হয়ে আছে। এই অসামাণ্য ভর এক স্থানে কুন্ডলিত হয়ে স্থান-কাল বক্রতার সৃষ্টি করে। প্রতিটি গালাক্সির স্থানে স্থানে কম-বেশি কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিতের কথা জানা যায়। সাধারণত বেশীরভাগ গ্যালাক্সিই তার মধ্যস্থ কৃষ্ণগহ্বরকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণয়মান।

কৃষ্ণগহ্বর শব্দের অর্থ কালো গর্ত। একে এই নামকরণ করার পেছনে কারণ হল এটি এর নিজের দিকে আসা সকল আলোক রশ্মিকে শুষে নেয়। কৃষ্ণগহ্বর থেকে কোন আলোক বিন্দুই ফিরে আসতে পারে না ঠিক থার্মোডায়নামিক্সের কৃষ্ণ বস্তুর মতো।

অনেকদিন পর্যন্ত কৃষ্ণগহ্বরের কোন প্রত্যক্ষ দর্শন পাওয়া গিয়েছিল না, কারণ এ থেকে আলো বিচ্ছুরিত হতে পারে না যেকারণে একে দেখা সম্ভব নয়, কিন্ত এর উপস্থিতির প্রমাণ আমরা পরোক্ষভাবে পেয়েছিলাম। কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিতের প্রমাণ কোন স্থানের তারা নক্ষত্রের গতি এবং দিক দেখে পাওয়া যায়। মহাকাশবিদগণ ১৬ বছর ধরে আশে-পাশের তারামন্ডলীর গতি-বিধি পর্যবেক্ষণ করে গত ২০০৮ সালে প্রমাণ পেয়েছেন অতিমাত্রার ভর বিশিষ্ট একটি কৃষ্ণগহ্বরের যার ভর আমাদের সূর্য থেকে ৪ মিলিয়ন গুন বেশি এবং এটি আমাদের আকাশগঙ্গার মাঝখানে অবস্থিত।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে লাইগো সংগঠন মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রথম প্রত্যক্ষ সনাক্তকরণের ঘোষণা দেয়, যা ছিল দুটি কৃষ্ণগহ্বরের একত্রীভবনের প্রথম পর্যবেক্ষণ। ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ১১ টি মহাকর্ষীয় তারঙ্গিক ঘটনা পর্যবেক্ষিত হয়েছে যার মাঝে ১০ টি ঘটনা কৃষ্ণগহ্বরের একত্রীভবনের ফলে এবং ১ টি ঘটনা দ্বৈত নিউট্রন তারা একত্রীভবনের ফলে সৃষ্ট। ২০১৭ সালে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ দ্বারামেসিয়ে ৮৭ ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের পর্যবেক্ষণের পর, দীর্ঘ বিশ্লেষণ শেষে ১০ এপ্রিল ২০১৯ সালে প্রথমবারের মত একটি কৃষ্ণবিবর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রত্যক্ষ চিত্র প্রকাশিত হয়।

কৃষ্ণগহ্বর গবেষণার ইতিহাস

একটি অ-ঘূর্ণন কৃষ্ণগহ্বরের সাধারণ চিত্রণ।

বিপুল পরিমাণ ভর বিশিষ্ট কোন বস্তু, যার মহাকর্ষেরপ্রভাবে আলোক তরঙ্গ পর্যন্ত পালাতে পারে না- এ ধারণা সর্বপ্রথম প্রদান করেন ভূতত্ত্ববিদ জন মিচেল (John Michell)। তার লেখা একটি চিঠিতে ১৭৮৩ সালে তিনি রয়েল সোসাইটির সদস্য এবং বিজ্ঞানীহেনরি ক্যাভেন্ডিসকে (Henry Cavendish) এ সম্পর্কে জানান।

১৭৯৬ সালে গণিতবিদ পিয়েরে সিমন ল্যাপলেস একই মতবাদ প্রদান করেন তার Exposition du système du Monde বইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণে। কিন্তু পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এ সম্পর্কিত ধারণা রাখা হয় নি। কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কিত এ ধরনের মতামত ঊনবিংশ শতাব্দিতে প্রকটভাবে উপেক্ষিত হয়। কারণ আলোরমতো ভরহীন তরঙ্গ কিভাবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে সেটা বোধগম্য ছিল না।বড় ম্যাগেলানিক মেঘের সামনে একটি ব্ল্যাকহোলের সিমুলেটেড ভিউ। মহাকর্ষীয় লেন্সিং এফেক্টটি নোট করুন, যা মেঘের দুটি বর্ধিত তবে অত্যন্ত বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। উপরের অংশে, মিল্কিওয়ে ডিস্কটি একটি চকে বিকৃত হয়ে দেখা দেয়।

সাধারণ আপেক্ষিকতা

1915 সালে, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি বিকাশ করেছিলেন, যা আগে দেখিয়েছিল যে মাধ্যাকর্ষণ আলোর গতিতে প্রভাব ফেলে। মাত্র কয়েক মাস পরে, কার্ল শোয়ার্জচাইল্ড আইনস্টাইন ক্ষেত্রের সমীকরণগুলির একটি সমাধান পেয়েছিলেন, যা একটি পয়েন্ট ভর এবং একটি গোলাকৃতির ভরগুলির মহাকর্ষ ক্ষেত্র বর্ণনা করে শোয়ার্জচাইল্ডের কয়েকমাস পরে হেন্ডরিক লরেঞ্জের শিক্ষার্থী জোহানেস ড্রসটি স্বাধীনভাবে পয়েন্ট ভরটির জন্য একই সমাধান দিয়েছেন এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে আরও বিস্তৃতভাবে লিখেছিলেন। এই সলিউশনটির এখন এক শোকার্জস্কিল্ড ব্যাসার্ধ বলা হয়, যেখানে এটি একবচনে পরিণত হয়েছিল, যার অর্থ আইনস্টাইন সমীকরণের কিছু পদ অসীম হয়ে ওঠে তার এক অদ্ভুত আচরণ ছিল। এই পৃষ্ঠের প্রকৃতিটি তখন বেশ বোঝা যাচ্ছিল না। ১৯২৪ সালে আর্থার এডিংটন দেখিয়েছিলেন যে স্থানাঙ্কের পরিবর্তনের পরে এককত্বটি অদৃশ্য হয়ে গেছে (দেখুন এডিংটন – ফিনকেলস্টেইন স্থানাঙ্ক), যদিও জর্জেস লেমাত্রে বুঝতে পেরেছিলেন যে 1945 সালে শোয়ার্জস্কিল্ড ব্যাসার্ধের এককত্বই ছিল একটি শারীরিক সমন্বয়মূলক এককতা। আর্থার এডিংটন 1926 সালের একটি বইতে শোয়ার্জচাইল্ড ব্যাসার্ধের সাথে সংক্ষিপ্তভাবে ভরযুক্ত একটি তারার সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, উল্লেখ করে যে আইনস্টাইনের তত্ত্বটি বেটেলজিউসের মতো দৃশ্যমান তারকাদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত বড় ঘনত্বকে শাসন করতে দেয় কারণ “250 মিলিয়ন কিমি ব্যাসার্ধের একটি তারকা পারে সূর্যের মতো সম্ভবত এত বেশি ঘনত্ব নাও থাকতে পারে প্রথমতঃ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বড় হবে যে আলো এ থেকে বাঁচতে সক্ষম হবে না, রশ্মি পৃথিবীতে পাথরের মতো তারার দিকে ফিরে পড়েছিল।দ্বিতীয়ত, লাল স্থানান্তর ift বর্ণালী রেখাগুলির এত দুর্দান্ত হবে যে বর্ণালীটি অস্তিত্বের বাইরে চলে গেল তৃতীয়ত, ভরটি স্পেস-টাইম মেট্রিকের এত বেশি বক্রতা তৈরি করবে যে স্থানটি তারার চারপাশে বন্ধ হয়ে যাবে, আমাদের বাইরে রেখেছিল (অর্থাত্ কোথাও নেই) । “

১৯৩১ সালে সুব্রহ্মণ্য চন্দ্রশেখর গণ্য করে বিশেষ আপেক্ষিকতা ব্যবহার করে বলেছিলেন যে একটি নির্দিষ্ট-সীমাবদ্ধ ভরগুলির (বর্তমানে চন্দ্রশেখর সীমা বলা হয় ১.৪ মেঘ) উপরে ইলেক্ট্রন-অধঃপরিবর্তনশীল কোনও দেহের স্থির সমাধান নেই। তাঁর যুক্তিগুলি এডিংটন এবং লেভ ল্যান্ডাউয়ের মতো তাঁর সমসাময়িকদের অনেকেই বিরোধিতা করেছিলেন, তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে এখনও কিছু অজানা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া বন্ধ করবে। এগুলি আংশিকভাবে সঠিক ছিল: চন্দ্রশেখরের সীমা থেকে কিছুটা বেশি বিশাল একটি সাদা বামন একটি নিউট্রন তারকাতে পতিত হবে, [32] যা নিজেই স্থিতিশীল। তবে ১৯৩৯ সালে রবার্ট ওপেনহাইমার এবং অন্যান্যরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে চন্দ্রশেখরের উপস্থাপিত কারণে নিউট্রন নক্ষত্রগুলি অন্য একটি সীমা (টলম্যান-ওপেনহাইমার – ভলকফের সীমা) এর চেয়েও বেশি ধসে পড়বে এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে পদার্থবিজ্ঞানের কোনও আইন অন্তত কিছুটা হস্তক্ষেপ করবে না এবং কমপক্ষে কিছু বন্ধ করবে। ব্ল্যাকহোলগুলিতে ভেঙে পড়া তারা [৩৩] তাদের আসল গণনাগুলি, পাওলি বর্জন নীতিটির ভিত্তিতে, এটিকে 0.7 M☉ হিসাবে দিয়েছে; পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী বল মধ্যস্থতাযুক্ত নিউট্রন-নিউট্রন বিকিরণের বিবেচনার ফলে অনুমানটি প্রায় 1.5 মিলিয়ন থেকে 3.0 মিলিয়ন মাইন্ডে উন্নীত হয়। [34] নিউট্রন স্টার মার্জার GW170817 এর পর্যবেক্ষণগুলি, যা কিছুক্ষণের পরে একটি ব্ল্যাকহোল তৈরি করেছে বলে মনে করা হয়, তারা TOV সীমা অনুমানটিকে ~ 2.17 M☉ এ পরিমার্জন করেছে|

ওপেনহাইমার এবং তাঁর সহ-লেখকগণ শোয়ার্জস্কিল্ড ব্যাসার্ধের সীমানায় একাকীত্বটির ব্যাখ্যা করেছিলেন যে ইঙ্গিত দেয় যে এটি একটি বুদবুদের সীমানা যেখানে সময় থেমেছিল। এটি বাহ্যিক পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি বৈধ দৃষ্টিকোণ, তবে অনুপ্রবেশকারী পর্যবেক্ষকদের জন্য নয়। এই সম্পত্তির কারণে, ধসে পড়া নক্ষত্রগুলিকে “হিমশীতল তারা” বলা হত, কারণ বাইরের পর্যবেক্ষকরা ততক্ষণে নক্ষত্রের পৃষ্ঠকে হিমশীতল দেখতে পাবেন যেখানে তার পতনটি শোয়ার্জচাইল্ড ব্যাসার্ধে নিয়ে যায় |

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ

শিরোনামের বিবরণ যোগ করুন


মহাকর্ষীয় তরঙ্গ হলো ত্বরিত বস্তু কতৃক সৃষ্ট স্থান-কালের আন্দোলনজনিত বিশেষ প্রকারের তরঙ্গ। সাধারণ আপেক্ষিকতত্ত্ব অনুযায়ী নির্বাতে এর বেগ আলোর বেগের সমান। ১৯০৫ সালে অঁরি পোয়াঁকারে এই তরঙ্গের প্রস্তাবনা দেন এবংআইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিকতত্ত্ব থেকে এর বর্ণনা দেন। যেকোন ত্বরিত, স্পন্দিত এবং প্রবলভাবে আন্দোলিত ভর মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সৃষ্টি করতে সক্ষম। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ মহাকর্ষীয় বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি পরিবহন করে যা বিচ্ছুরক শক্তির একটি রূপ। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র এদের অস্তিত্ব সম্পর্কে বলে না যেহেতু এই সূত্র ভৈত মিথস্ক্রিয়া সমূহ অসীম গতিতে বিস্তৃত হয় এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত – যা দেখায় যে চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞান আপেক্ষিকতার সাথে জড়িত ঘটনা সমূহ বর্ণনা করতে পারে না।দুইটি কৃষ্ণ গহব্বরের একীকরণের ঘটনা।

১৯৯৩ সালে রাসেল অ্যালান হাল্‌স এবং জোসেফ হুটন টেইলর জুনিয়র কতৃক আবিষ্কৃত হাল্‌স-টেইলর যুগ্ন পালসার তাদের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার এনে দেয়। এই পালসারটিই প্রথম বস্তু যা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের পরক্ষ প্রমাণ দেয়।

১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সালে লিগো এবং ভার্গো ঘোষণা করে যে তারা প্রথম কোনো পর্যবেক্ষিত মহাকর্ষীয় তরঙ্গের তালিকা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ঘটনা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ করেছে। পর্যবেক্ষণটি এর ৫ মাস পূর্বেউন্নমিত লিগো আবিস্কারক কতৃক করা হয়।ইহা একটি যুগ্ন কৃষ্ণ গহব্বর ব্যবস্থার একত্রিকরণের কারণে উৎপন্ন হয়। এর পরে, লিগো আরো দুটি নিশ্চিত এবং একটি সম্ভাব্য মহাকর্ষীয় তরঙ্গের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে।

২০১৭ সালে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের আবিস্কারে অবদানের জন্য রাইনার ভাইসকিপ থর্ন ও ব্যারি ব্যারিশ-কে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

সূত্রপাত

আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বানুযায়ী,মহাকর্ষ স্থান-কালের ভাঁজ জনিত একটি ঘটনা। ভর ভরের উপস্থিতির কারণা স্থান-কালে এমন ভাঁজের সৃষ্টি হয়। সাধারণত, একটি নির্দিষ্ট আয়তনে যত বেশী ভর স্থাপন করা যায় এই ভাঁজের পরিমাণ সেই নির্দিষ্ট আয়তনের প্রান্ত পর্যন্ত তত বৃদ্ধি পায়। যখন বস্তু স্থান-কালে চলতে শুরু করে তখন বস্তুর অবস্থানকে প্রতিবিম্বিত করার জন্য এই ভাঁজেরও পরিবর্তন ঘটে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, ত্বড়িত বস্তু এই ভাঁজের পরিবর্তন সাধন করে যা একটি তরঙ্গের মত করে আলোর গতিতে বিস্তৃতি লাভ করে। এমন বিস্তৃতিমূলক ঘটনাই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ হিসেবে পরিচিত।

যখন মহাকর্ষীয় তরঙ্গ কোনো পর্যবেক্ষককে অতিক্রম করে তখন এর টানের কারণে পর্যবেক্ষকটি স্থান-কালে একটি বিকৃতির দেখা পায়।

জোয়ার ভাটা

জোয়ার-ভাটা

সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উপর মহাকর্ষীয় শক্তির ক্রিয়া


পৃথিবীর বাইরের মহাকর্ষীয় শক্তির (বিশেষ করেচাঁদের) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি নিয়মিত বিরতিতে ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা (একত্রে জোয়ার-ভাটা) বলা হয়। জোয়ার-ভাটার ফলে সমুদ্রে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তাকে জোয়ার তরঙ্গ (tidal waves) বলে। জোয়ারের পানি উপকূলের দিকে অগ্রসর হলে পানি সমতলের যে উত্থান ঘটে, তাকে জোয়ারের পানির সর্বোচ্চ সীমা (high tide water) এবং ভাটার পানি সমুদ্রের দিকে নেমে যাওয়ার সময় পানি সমতলের যে পতন ঘটে, তাকে জোয়ারের পানির সর্বনিম্ন সীমা (low tide water) বলে।সমুদ্রপৃষ্ঠের উপর চাঁদের মহাকর্ষের প্রভাবজোয়ারের সময় ঢেউয়ের তোড়ে উপচে পড়া জল

জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণ

জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান কারণ হল-

  • সূর্য ও প্রধানত চাঁদ দ্বারা পৃথিবীর ওপর প্রযুক্ত মহাকর্ষ বল।
  • পৃথিবীর ওপর কার্যকরী অপকেন্দ্রিক বল।

পৃথিবীর যে পাশে চাঁদ থাকে সে পাশে চাঁদ দ্বারা পৃথিবীপৃষ্ঠের সমুদ্রের জল তার নিচের মাটি অপেক্ষা বেশি জোরে আকৃষ্ট হয়। এ কারণে চাঁদের দিকে অবস্থিত জল বেশি ফুলে উঠে। একই সময়ে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের বিপরীত দিকে থাকে, সেদিকের সমুদ্রের নিচের মাটি তার উপরের জল অপেক্ষা চাঁদ কর্তৃক বেশি জোরে আকৃষ্ট হয়। আবার চাঁদ থেকে জলের দূরত্ব মাটি অপেক্ষা বেশি থাকায় জলের উপর চাঁদের আকর্ষণ কম থাকে। ফলে সেখানকার জলও ফুলে উঠে। ফলে একই সময়ে চাঁদের দিকে এবং চাঁদের বিপরীত দিকে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের এই ফুলে উঠাকে জোয়ার বলে।

আবার পৃথিবী ও চাঁদের ঘুর্ণনের কারণে একসময় ফুলে ওঠা জল নেমে যায়। জলের এই নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। পৃথিবী যে সময়ের মধ্যে নিজ অক্ষের চারদিকে একবার আবর্তন করে (এক দিনে) সে সময়ের মধ্যে পৃথিবীর যেকোন অংশ একবার চাঁদের দিকে থাকে এবং একবার চাঁদের বিপরীত দিকে থাকে। এ কারণে পৃথিবীর যেকোন স্থানে দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়।

জোয়ার-ভাটার জন্য সূর্যের আকর্ষণও অনেকাংশে দায়ী। তবে অনেক দূরে থাকায় সূর্যের আকর্ষণ চাঁদের আকর্ষণের থেকে কম কার্যকর। সূর্য এবং চাঁদ যখন সমসূত্রে পৃথিবীর একই দিকে বা বিপরীত দিকে অবস্থান করে তখন উভয়ের আকর্ষণে সর্বাপেক্ষা উঁচু জোয়ার হয়, জোয়ারের জল বেশি ছাপিয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে ভরা কাটাল বা উঁচু জোয়ার বলা হয়। আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য এবং চাঁদের মধ্য কৌণিক দূরত্ব যখন এক সমকোণ পরিমাণ হয় তখন একের আকর্ষণ অন্যের আকর্ষণ দ্বারা প্রশমিত হয়। তাই সবচেয়ে নিচু জোয়ার হয় যাকে মরা কাটাল বলে আখ্যায়িত করা হয়।

মুখ্য জোয়ার

চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এ আকর্ষণে চারদিক হতে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়।

গৌণ জোয়ার

চন্দ্র পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

ভরা কোটাল

অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কোটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

মরা কোটাল

কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সঙ্গে পরস্পর সমকোণে থাকলে চাঁদের আকর্ষণে যেদিকে জলরাশি ফুলে ওঠে ঠিক তার সমকোণে সূর্যের আকর্ষণেও সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে। চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল পরস্পর বিপরীতে কাজ করায় সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি বিশেষ ফুলে ওঠে না, এইভাবে সৃষ্ট জোয়ারকে মরা কোটাল বা মরা জোয়ার বলে।

জোয়ার-ভাটার সময়ের ব্যবধান

কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট একটি সময়ে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরে সেখানে গৌণ জোয়ার হয় এবং মুখ্য জোয়ারের ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর সেখানে আবার মুখ্য জোয়ার হয়। তাই প্রত্যেক স্থানে জোয়ারের ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরে ভা

Star cluster

তারা গুচ্ছ

শিরোনামের বিবরণ যোগ করুন


স্টার ক্লাস্টারগুলিকে (কখনও কখনও স্টার মেঘের মতো ভুল বলা হয়), মাঝে মাঝে কেবল সংক্ষেপে “ক্লাস্টার” বলা হয়, যেগুলি তারার বড় দল। তারা গুচ্ছ দুই ধরনের বৈশিষ্ট যুক্ত হতে পারে: গ্লবুলার ক্লাস্টারগুলি শত শত বা হাজার হাজার বছরের পুরনো তারা এবং এই তারাগুলি মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ, যখন মুক্ত তারা গুচ্ছগুলি বা তারা গুচ্ছের দলয়ে তারার সংখ্যা সাধারণত কয়েক শতর চেয়ে কম থাকে এবং প্রায়ই সকলেই খুবই নবীন তারা। মহাকর্ষীয় মহাকর্ষের প্রভাব দ্বারা মুক্ত তারা গুচ্ছগুলিবিঘ্নিত হয় দৈত্য আণবিক মেঘয়ের জন্য এবংতারাগুলি ছায়াপথের দিকে ছুটে চলে। তবে তারা গুচ্ছের সদস্য তারাগুলি মহাশূন্যে একই দিকে তাদের সরণ অব্যাহত রাখবে, যদিও তারাগুলি মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ নয়; তারপর তারা একটি নমনীয় অ্যাসোসিয়েশন হিসাবে পরিচিত হয়, কখনও কখনও একটি চলমান দল হিসাবে উল্লেখ করা।

এই নিবন্ধটি ইংরেজি উইকিপিডিয়াথেকে ব্যাঘ্র প্রকল্প এডিটাথন ২০১৯উপলক্ষে তৈরি করা হচ্ছে। নিবন্ধটিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধকার অনুবাদ করে এর মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণ সাধন করবেন; আপনার যেকোনও প্রয়োজনে এই নিবন্ধের আলাপ পাতাটি ব্যবহার করুন।
আপনার আগ্রহের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।হারকিউলিস নক্ষত্রপুঞ্জের অন্তর্গত মেসিয়ার ৯২

খালি চোখে দৃশ্যমান স্টার ক্লাস্টারগুলি হল প্লাইডেস (এম ৪৫), হাইডেস এবং বিইহিভ তারা গুচ্ছ (এম -৪৪)।

মুক্ত তারাগুচ্ছ

, একটি মুক্ত তারা গুচ্ছ যা পরিপার্শের উতপ্ত নীল নক্ষত্র দ্বারা প্রতিফলিত হয়।

গ্লবুলার ক্লাস্টারগুলি থেকে ওপেন ক্লাস্টারগুলি (ওসি) খুবই ভিন্ন। গোলাকার গ্লবুলার তারাগুচ্ছগুলি থেকে ভিন্ন, তারাগুলি গ্যালাক্টিক সমতলে সীমাবদ্ধ থাকে এবং সর্পিল বাহুগুলির মধ্যে প্রায় সবসময় পাওয়া যায়। এই তারাগুলি প্রায়শই দশ মিলিয়ন বছরের পুরোন বা কয়েক বিলিয়ন বছর বয়সী কিছু বিরল ব্যতিক্রমি তারাও রয়েছে, যেমন মেসিয়ার ৬৭(সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং পুরানো মুক্ত ক্লাস্টার)। এই তারাগুলি এইচ ওরিয়ন নেবুলা এইচ অঞ্চলের অঞ্চল গঠিত হয়।

মুক্ত তারা গুচ্ছ সাধারণত প্রায় কয়েক শত তারা নিয়ে গঠিত হয় প্রায় ৩০ আলোকবর্ষ পর্যন্ত একটি অঞ্চলের মধ্যে। মুক্ত তারা গুচ্ছের তারাগুলি গ্লবুলার ক্লাস্টারের তুলনায় কম ঘনবসতিপূর্ণ এবং খুব কম মহাকর্ষীয়ভাবে আবদ্ধ। এগুলি সময়ের সাথে সাথে দৈত্য আণবিক মেঘ এবং অন্যান্য তারা গুচ্ছগুলির মাধ্যাকর্ষণ দ্বারা বিঘ্নিত হয়। ক্লাস্টার বা তারাগুচ্ছের সদস্যদের মধ্যে ঘোরাঘুরি বন্ধ করেও তারাগুলির ইজেকশন হতে পারে এবং এই প্রক্রিয়া কে ‘বাষ্পীভবন’ নামে পরিচিত।

সর্বাধিক বিশিষ্ট মুক্ত তারা গুচ্ছ হল টরাসের প্লাইডেস এবং হাইডেজ। ডাবল ক্লাস্টার অফ এইচ + চি পারসেও অন্ধকারের আকাশের নিচে বিশিষ্ট হতে পারে। তরুণ মুক্ত তারা গুচ্ছগুলি প্রায়ই গরম নীল রঙের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যদিও এই ধরনের তারকা অস্পষ্টতার মধ্যে অতিবেগুনি, তারাগুলি কেবল কয়েক দশক ধরে স্থায়ী হয়, মুক্ত তারা গুচ্ছগুলি মৃত্যুর আগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। 

এমবেডেড ক্লস্টার

The embedded Trapezium cluster can be seen in X-raylight which penetrates the cloud.তারা গুচ্ছ এনজিসি ৩৫৭২ এবং তার পরিপার্শ

গ্লবুলার ক্লস্টার

সুপার তারকা ক্লাস্টার

সুপার স্টার ক্লাস্টার (এসএসসি) একটি গ্লবুলার ক্লাস্টারের অগ্রদূত বলে মনে করা হয়, এই তারাগুলি একটি খুব বড় অঞ্চল নিয়ে গঠিত। সুপার স্টার ক্লাস্টার, যেমন ওয়েষ্টার্লুন্ড ১-এর আকাশগঙ্গা, গ্লাবুলুলার ক্লাস্টারগুলির অগ্রদূত হতে পারে। 

পৃথিবীর ইতিহাস

উৎপত্তি

সৌরজগৎ সৃষ্টির মোটামুটি ১০০ মিলিয়ন বছর পর একগুচ্ছ সংঘর্ষের ফল হলো পৃথিবী। আজ থেকে ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পায়, পায় লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল। সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগে দুটি গ্রহের তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এ সময় জুড়ে যায় গ্রহ দুটি। পৃথিবী নামক গ্রহের সঙ্গে চরম সংঘর্ষ হয়েছিল থিয়া নামে একটি গ্রহের। সংঘর্ষের সময় পৃথিবীর বয়স ছিল ১০ কোটি বছর। সংঘর্ষের জেরে থিয়া ও পৃথিবীর জুড়ে যায়, তৈরি হয় নতুন গ্রহ। সেই গ্রহটিতেই আমরা বাস করছি। তিনবার চন্দ্র অভিযানে পাওয়া চাঁদের মাটি এবং হাওয়াই অ্যারিজোনায় পাওয়া আগ্নেয়শিলা মিলিয়ে চমকে যান গবেষকরা। দুটি পাথরের অক্সিজেন আইসোটোপে কোনও ফারাক নেই। গবেষকদলের প্রধান অধ্যাপক এডওয়ার্ড ইয়ংয়ের কথায়, চাঁদের মাটি আর পৃথিবীর মাটির অক্সিজেন আইসোটোপে কোনও পার্থক্য পাইনি। থিয়া নামক গ্রহটি তখন পরিণত হচ্ছিল। ঠিক সেই সময়েই ধাক্কাটি লাগে এবং পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।শিল্পীর দৃষ্টিতে প্রথম দিকের সৌর জগৎ ও এর গ্রহসূহের চাকতি।

সৌরজগতের ভেতরে অবস্থিত সবচেয়ে পুরনো পদার্থের বয়স প্রায় ৪.৫৬ শত কোটি বছর। আজ থেকে ৪.৫৪ শত কোটি বছর আগে পৃথিবীর আদিমতম রূপটি গঠিত হয়। সূর্যের পাশাপাশি সৌরজগতের অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুগুলিও গঠিত হয় ও এগুলোর বিবর্তন ঘটতে থাকে। তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, একটি আণবিক মেঘ থেকে একটিসৌর নীহারিকা মহাকর্ষীয় ধসের মাধ্যমে কিছু আয়তন বের করে নেয়, যা ঘুরতে শুরু করে এবং চ্যাপ্টা হয়ে তৈরি হয় পরিনাক্ষত্রিক চাকতিতে, এবং এই চাকতি থেকেই সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহের উৎপত্তি ঘটে। একটি নীহারিকাতে বায়বীয় পদার্থ, বরফকণা এবং মহাজাগতিক ধূলি (যার মধ্যে আদিম নিউক্লাইডগুলিও অন্তর্ভুক্ত) থাকে। নীহারিকা তত্ত্বঅনুযায়ী সংযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতিক্ষুদ্র গ্রহগুলি গঠিত হয়। এভাবে আদিম পৃথিবীটি গঠিত হতে প্রায় ১ থেকে ২ কোটি বছর লেগেছিল।

চাঁদের গঠন নিয়ে বর্তমানে গবেষণা চলছে এবং বলা হয় চাঁদ প্রায় ৪.৫৩ বিলিয়ন বছর পূর্বে গঠিত হয়।একটি গবেষণারত অনুমানের তথ্য অনুসারে, মঙ্গল গ্রহ আকারের বস্তু থিয়ার সাথে পৃথিবীর আঘাতেরপরে পৃথিবী থেকে খসে পড়া বস্তুর পরিবৃদ্ধি ফলে চাঁদ গঠিত হয়। এই ঘটনা থেকে বলা হয়ে থাকে যে, থিয়া গ্রহের ভর ছিল পৃথিবীর ভরের প্রায় ১০%, যা পৃথিবীকে আঘাত করে কৌনিক ভাবে, এবং আঘাতের পরে এটির কিছু ভর পৃথিবীর সাথে বিলীনও হয়ে যায়। প্রায় ৪.১ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন বছরের মধ্যে অজস্র গ্রহাণুর আঘাত যা ঘটে, যার ফলে চাঁদের বৃহত্তর পৃষ্ঠতলের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, আর এর কারণ ছিল পৃথিবীর উপস্থিতি।

ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস

একটি প্রাকৃতিক শিলাগঠিত খিলান, শিলার স্তর প্রদর্শন করছে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও সাগরসমূহ আগ্নেয়গিরিরউৎগিরণ ও জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ গ্যাসেরঅতিনির্গমনের (Outgassing) ফলে সৃষ্টি হয়েছে।গ্রহাণুপুঞ্জ, ক্ষুদ্র গ্রহ, ও ধুমকেতু থেকে আসা ঘনীভূত জল ও বরফের সম্মিলনে পৃথিবীর সাগরসমূহের উৎপত্তি হয়েছে। ফেইন্ট ইয়ং সান প্যারাডক্সমডেলে বলা হয়, যখন নব গঠিত সূর্যে বর্তমান সময়ের চেয়ে মাত্র ৭০% সৌর উজ্জ্বলতা ছিল তখন বায়ুমণ্ডলীয় “গ্রিনহাউজ গ্যাস” সাগরের পানি বরফ হওয়া থেকে বিরত রাখে। ৩.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বেপৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয়, যা সৌর বায়ুর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে উড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

পৃথিবীর শক্ত বহিরাবণ সৃষ্টি হয়েছে যখন পৃথিবীর গলিত বাইরের অংশ ঠাণ্ডা হয়ে শক্ত হয়। দুটি মডেলে ব্যাখ্যা করা হয় যে, ভূমি ধীরে ধীরে বর্তমান অবস্থায় এসেছে, বা পৃথিবীর ইতিহাসের শুরুতেদ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মহাদেশীয় অঞ্চলসমূহ গঠিত হয়েছে।মহাদেশসমূহ পৃথিবীর অভ্যন্তরে লাগাতার তাপ হ্রাস পাবার ফলে ভূত্বকীয় পাত গঠিত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক সময় শত-মিলিয়ন বছর যাবত চলে এবং এ সময়েমহামহাদেশসমূহ একত্রিত হয়েছে ও ভেঙ্গে আলাদাও হয়েছে। প্রায় ৭৫ কোটি বছর পূর্বে সবচেয়ে প্রাচীন মহামহাদেশ রোডিনিয়া ভাঙ্গতে শুরু করে। মহাদেশটি পরে পুনরায় ৬০ কোটি বছর থেকে ৫৪ কোটি বছর পূর্বে একত্রিত হয়ে প্যানোটিয়া, পরবর্তীতেপ্যানজিয়ায় একত্রিত হয়, যাও পরে ১৮ কোটি বছর পূর্বে ভেঙ্গে যায়।

বরফ যুগের বর্তমান রূপ শুরু হয় প্রায় ৪ কোটি বছর পূর্বে এবং ৩০ লক্ষ বছর পূর্বে প্লেইস্টোসিন সময়ে তা ঘনীভূত হয়। ৪০,০০০ থেকে ১০০,০০০ বছর পূর্বে হিমবাহ ও বরফ গলার কারণে উচ্চ-অক্ষাংশঅঞ্চলসমূহের উচ্চতা কমতে থাকে। শেষ মহাদেশীয় হিমবাহ শেষ হয় ১০,০০০ বছর পূর্বে।

জীবনের আবির্ভাব ও বিবর্তন

জীবন সময়রেখাদে • আ • -৪৫০ —–-৪০০ —–-৩৫০ —–-৩০০ —–-২৫০ —–-২০০ —–-১৫০ —–-১০০ —–-৫০ —–০ —   পানিএককোষী
জীব
সালোকসংশ্লেষসুকেন্দ্রিকবহুকোষী
জীব

শুক্র গ্রহ

শুক্র গ্রহ

সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ


শুক্র গ্রহ হল সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়েসৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ। এই পার্থিব গ্রহটিকে অনেক সময় পৃথিবীর “বোন গ্রহ” বলে আখ্যায়িত করা হয়, কারণ পৃথিবী এবং শুক্রের মধ্যে গাঠনিক উপাদান এবং আচার-আচরণে বড় রকমের মিল রয়েছে। এই গ্রহটি যখন সকাল বেলায় পৃথিবীর আকাশে উদিত হয় তখন একে লুসিফার বা শয়তান নামেও ডাকা হয়ে থাকে। বাংলায় সকালের আকাশে একে শুকতারাএবং সন্ধ্যার আকাশে একে সন্ধ্যাতারা বলে ডাকা হয়ে থাকে। এর কোনও উপগ্রহ নাই।দ্রুত তথ্য: গড় ঘনত্ব, গঠন …

নাম

শুক্র গ্রহের বাংলা নাম এসেছে অসুরদের গুরু ও রক্ষক শুক্রাচার্য থেকে, এবং শুক্রাচার্য এর দিন হিসেবে এসেছে শুক্রবার।

শুক্র গ্রহের লাতিন নামকরণ করা হয়েছে রোমানপ্রেমের দেবী ভিনাস (Venus, লাতিনে: উয়েনুস্‌, ইংরেজিতে: ভীনাস্‌) নামানুসারে। পৌরাণিক কাহিনীতে ভেনাস (গ্রিকঃ এফ্রোদিতি, বাংলা শুক্র) ভালকানের স্ত্রী এবং দেবপুত্র কিউপিড ও দৈনিয়্যাসের মাতা। বর্তমানে শুক্রের বিশেষণ হিসেবে ইংরেজিতেভেনুশিয়ান (Venusian) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এরলাতিন বিশেষণ হচ্ছে উয়েনেরেয়াল্‌ (Venereal), ইংরেজি উচ্চারণে ভেনিরিয়্যাল্‌ যা আধুনিক ইংরেজি ভাষায় যৌনরোগ বোধক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই জন্য ভেনিরিয়্যাল শব্দটি এর বিশেষণ হিসেবে এখন ব্যবহৃত হয় না। অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এই গ্রহের নামের বিশেষণ হিসেবে সিথারিয়ান(Cytherean) শব্দটি ব্যবহার করেন যা গ্রিক পুরাণেউল্লেখিত দেবী আফ্রোদিতির অপর নাম সিথারিয়াথেকে এসেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি বিশেষণ হচ্ছে: ভেনারিয়ান (Venerean, Venarian), ভেনারান (Veneran) ইত্যাদি।

চৈনিক, জাপানি, কোরিয় এবং ভিয়েতনামিজ সংস্কৃতিতে এই গ্রহের নাম বলা হয় ধাতব তারা (金星) যা পৃথিবী সৃষ্টিকারী পাঁচটি মৌলিক উপাদানের নাম থেকে উৎসারিত।

কক্ষীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ

কক্ষপথ

সব গ্রহের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হলেও শুক্রের কক্ষপথ প্রায় গোলাকার। এর উৎকেন্দ্রিকতা শতকরা এক ভাগেরও কম। যেহেতু সূর্য থেকে শুক্রের দূরত্ব পৃথিবীর চেয়ে কম, সেহেতু পৃথিবীর দিক থেকে সূর্য উদিত হয় (সূর্যের বৃহত্তম প্রতান হচ্ছে ৪৭.৮ ডিগ্রী) শুক্রও প্রায় একই দিক থেকে উদিত হয়। এজন্য এই গ্রহটিকে কেবল সূর্যোদয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে এবং সূর্যাস্তের কয়েক ঘণ্টা পরে দেখা যায়। অবশ্য যখন শুক্র তার উজ্জ্বলতম অবস্থায় থাকে তখন দিনের বেলায়ও একে দেখা যায়। আসলে চাঁদ ছাড়া শুক্র গ্রহই একমাত্র জ্যোতিষ্ক যা পৃথিবীর আকাশ থেকে রাত এবং দিন উভয় সময়েই দেখা যায়। অবশ্য ক্ষেত্রবিশেষে কিছু নবতারা রাত ও দিন উভয় সময়ে দেখা যায়। যেমন, কাঁকড়া নীহারিকা সৃষ্টিকারী নবতারা। যাহোক অন্ধাকার আকাশে দৃশ্যমান শুক্র গ্রহ দেখাতে অনেকটাই তারার মত জ্বলজ্বলে হয়ে থাকে।

পরপর দুটি সর্বোচ্চ প্রতানের মধ্যবর্তী চক্রটির সময়কাল ৫৮৪ দিন। এই ৫৮৪ দিন পর শুক্র গ্রহকে পূর্বে যে অবস্থানে দেখা যেত তার সাথে ৭২ ডিগ্রী কোণ করে অবস্থান করতে দেখা যায়। যেহেতু ৫ * ৫৮৪ = ২৯২০ = ৮ * ৩৬৫ সেহেতু দেখা যাচ্ছে শুক্র গ্রহ প্রতি ৮ বছর পরপর (লীপ ইয়ারের দুই দিন বাদে) তার আগের অবস্থানে ফিরে আসে। এই চক্রটি প্রাচীনগ্রিক সভ্যতায় সোথিক্‌স চক্র নামে পরিচিত ছিল এবংমায়া সভ্যতার নিকটও তা সুপরিচিত ছিল। চাঁদের সাথেও এর একটি সম্পর্ক রয়েছে, যেমন: ২৯.৫ * ৯৯ = ২৯২০.৫; অর্থাৎ এই সময়কালটি প্রায় ৯৯ টিচন্দ্রমাসের সমান।

গ্রহটির অন্তঃসংযোগের সময় শুক্র অন্য যেকোন গ্রহের তুলনায় পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে আসে; তখন এ থেকে পৃথিবীর দূরত্ব হয় চাঁদ থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্বের প্রায় ১০০ গুণ। ১৮০০ সালের পর থেকে শুক্র গ্রহ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে পৌঁছেছিল ১৮৫০ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে। কখন তাদের মধ্যে দূরত্ব ছিল: ০.২৬৪১৩৮৫৪ জ্যোতির্বিজ্ঞান একক = ৩৯,৫৪১,৮২৭ কিলোমিটার। ২১০১ সালের ডিসেম্বর ১৬ তারিখের পূর্ব পর্যন্ত এটিই হবে শুক্র থেকে পৃথিবীর সর্বনিম্ন দূরত্ব। উক্ত তারিখে গ্রহদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব দাড়াবে ০.২৬৪৩১৭৩৬ জ্যোতির্বিজ্ঞান একক = ৩৯,৫৪১,৫৭৮ কিলোমিটার।

ঘূর্ণন

শুক্রের প্রতীপ গতি বেশ ধীর, এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘুরে যেখানে অন্যান্য অধিকাংশ গ্রহই পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরে থাকে। অবশ্য প্লুটো এবং ইউরেনাস গ্রহেরওপ্রতীপ গতি রয়েছে। শুক্রের এই ধীর প্রতীপ গতির কারণ হিসেবে ধরা হয়, জোয়ার বল, ঘর্ষণ এবং শুক্রের পুরু পরিবেশ সূর্যের মাধ্যমে অতি উত্তপ্ত হওয়া। যদি শুক্র থেকে সূর্য দেখা যেত তবে শুক্রের আকাশে তা পশ্চিম দিকে উদিত হয়ে পূর্বে অস্ত যেত। এর আহ্নিক গতি হচ্ছে পৃথিবীর ১১৬.৭৫ দিনের সমান এবং একটি শুক্রীয় বছরের স্থায়িত্বকাল হচ্ছে ১.৯২ শুক্রীয় দিবস।

একবার সম্পূর্ণভাবে নিজের কক্ষপথ বেয়ে সূর্যকে পরিভ্রমণ করতে শুক্র গ্রহের সময় লাগে ২২৫ দিন। শুক্র তার নিজ অক্ষে ঘোরে খুব ধীরগতিতে। শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার এবং ঘনত্ব ৫.০৬। এর মুক্তিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৬.৫ মাইল। শুক্রগ্রহের উল্লেখযোগ্য কোনো চৌম্বকক্ষেত্র নেই। এই গ্রহের আবহমন্ডলের প্রায় সবটাই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস। এখানে মাত্র ০.৪ ভাগ অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে। শুক্র গ্রহে কিছু নাইট্রোজেন,হাইড্রোজেনঅ্যামোনিয়া এবং নামমাত্র জলীয়বাষ্পের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এখন পর্যন্ত শুক্রগ্রহের খবরাখবর জানার জন্য বহু মহাকাশযান পাঠানো হয়েছে মহাকাশে। তাদের মধ্যেপাইওনিয়ার, ভেনাস-১ ও ভেনাস-২ এবং ভেনেরা ১১থেকে ১৪ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাইয়োনিয়ার মহাকাশযান শুক্রগ্রহের কাছ থেকে এমন সব ছবি তুলেছে যা থেকে শুক্রগ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতলভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন। শুক্র গ্রহের মোটামুটি একটা মানচিত্র পাইওনিয়ারের সূক্ষ জরিপের ফলে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।এছাড়া ভেনেরা-১১, শুক্র গ্রহের উপর নেমেছিল ১৯৭৮ সালর ২৫ ডিসেম্বর তারিখে। শুক্র গ্রহের অনেক ছবি পাঠিয়েছে এই মহাকাশযান।ভেনেরা-১৪ ও ১৫ শুক্র গ্রহে নেমে চমৎকার রঙিন ছবি পাঠিয়েছে পৃথিবীতে। অবশ্য এর আগে ১৯৬৬ সালের মার্চ মাসে ভেনাস-৩ শুক্রের উপরিভাগে বিধ্বস্ত হয়। বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন শুক্রগ্রহে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব নেই।

Design a site like this with WordPress.com
Get started